05/10/2019
গন্ধেই যে শহর চেনা যায়
সুনামগঞ্জ জেলা,প্রতিনিধি
ছাতক পৌরসভার ময়লা–আবর্জনা ফেলার কোনো ভাগাড় নেই। শহরের প্রবেশ প্রান্ত দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলা হয় আবর্জনা। ফলে দুর্গন্ধে নাক চেপে শহরে ঢুকতে হয়। দিনের পর দিন রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার এবং ওই পথে চলাচলকারী মানুষ। কিন্তু আধুনিক আবর্জনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।
পৌরসভা সূত্র জানায়, ১০.০বর্গকিঃমিঃ আয়তনের এ পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার লোকের বসবাস।
ঐতিহ্যবাহী ছাতক শহর একটি সমৃদ্ধশালী জনপদ। এখানকার শিল্প এবং প্রাকৃতিক সম্পদ জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আর এর প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ছাতক পৌরসভা। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বহমান সুরমা নদীর অপরাপর পারে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ ইং তারিখে ছাতক পৌরসভা স্থাপিত হয়। এ এলাকার জনগণ নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিল্প, সমৃদ্ধি এবং সম্পদ সংগ্রহে উল্লেখয়োগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।ছাতক পৌরসভা স্বল্পতম সময়ে সফলতার সঙ্গে১৮/০৯/২০০৮ ইং তারিখে ‘ক’শ্রেণীতে উন্নীত হয়। এই নিয়ে টানা তিন মেয়াদে মেয়র এর দায়িত্ব পালন করছেন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা জনাব আবুল কালাম চৌধুরী, নিজে ও নিকট আত্মীয়রা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, মাত্র ১৪ বছরে শত শত কোটি টাকার মালিক এখন তিনি ও তার পরিবার। ,জি,কি,শামীম, যুবলীগ নেতা খালেদ এর গল্প কেও হার মানায় তাদের গল্প। পৌরসভার কোটি কোটি আয় কিন্তু উল্লেখ যগ্ কোন উন্নয়নই নেই এই পৌরসভায়।
২২ বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা তো দূরের কথা, আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ভাগাড় নির্মাণ হয়নি এখনো। শহরের সব আবর্জনা বিভিন্ন সময়ে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন সড়কের পাশে। বিগত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মুক্তিরগাও গ্রামে শহরের প্রবেশ মুখে। দিনের পর দিন ময়লা–আবর্জনা ফেলায় ওই এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও পথচারীদের দুর্গন্ধের মধ্যে চলতে হচ্ছে।
দুর্গন্ধে এলাকায় দাঁড়ানো যায় না। মানুষ হেঁটে বা যানবাহনে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় নাক ধরে পার হচ্ছে। সিলেট থেকে নিয়মিত ছাতক আসা এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, বাসের ঘুমন্ত যাত্রীরাও দুর্গন্ধের কারণে জেগে ওঠে। গন্ধ পেয়েই যাত্রীরা বুঝতে পারে বাস ছাতক পৌর এলাকায় প্রবেশ করছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে রাস্তার পাশে ময়লা–আবর্জনা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনবিরোধী কাজ। পৌরসভার অন্যতম কাজ হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা। কিন্তু এভাবে আবর্জনা ফেলে পৌরসভা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী কাজ করছে।