23/09/2018
বাংলাদেশে HSC পর যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে এগুলো বন্ধ করে দেন,মাননীয় সরকার।
অনেকে আমাকে পাগল বলবে,হ্যা দুই যুগ আগে চীনদেরকেও পাগল বলছে,যখন চীন সরকার চীনের সব বিশ্ববিদ্যালয় ১২ বছর বন্ধ রাখে।আপনি কি জানেন,১৯৭১ সালের আগেও মালেশিয়া,চীন বাংলাদেশের চাইতে কম উন্নত দেশ ছিলো।আপনি কি জানেন১৯৮০ সালের আগেও মালেশিয়া ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করতে,বাংলাদেশে যেত।তাহলে আজ তারা কিভাবে উন্নত।আর আমরা দিন দিন,তলিয়ে যাচ্ছি।
শিক্ষা মন্ত্রী লক্ষ লক্ষ বেকার বসে বসে কি
করবে??? চাকুরি দিন। কর্ম ক্ষেত্র সৃষ্টি করুন।
এসব শিক্ষা ব্যাবস্থাদিয়ে দেশকে উন্নত করা
সম্ভব নয়য।উদ্ভট নিয়ম চালু করেও লাভ হবে না।
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি।
শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করেনিন।
চীনের একটি ঘটনাঃ
চীনে দিন দিন বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা
বাড়ছে। আর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে তরুণরা।
দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে গড়ে একজন করে
বিলিওনিয়ার হচ্ছে (এক বিলিয়ন ডলার=৮০০০
কোটি টাকা)।
বিপ্লবের পর চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী
করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে
বিশ্ববিদ্যালয়েভর্তি কার্যক্রম বন্ধ
রেখেছিলো। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল, এত
ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে?
কোথায় চাকরি পাবে? কেই বা চাকরী দিবে?
এত হাজার হাজার বেকারকে চাকরী দেয়ার
মত প্রতিষ্ঠান চীনে নেই।
এই সময়টায় চীন ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক
প্রশিক্ষন দিয়েছিল নানা ধরনের ট্রেড
কোর্সে। স্বল্প মেয়াদী ট্রেড কোর্স শিখে
চীনের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলো।
প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল এক একটা করে ছোট
ছোট কারখানায়। পরিবারের সবাই সেখানে
কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরী করার আলাদা খরচ
নেই। ফলে পন্যের উৎপাদন খরচ গেলো কমে।
বর্তমানে যে কোন পন্য স্বস্তায় উৎপাদন করার
সক্ষমতায় তাদের ধারে কাছে কেউ নেই।
পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে চাইনিজ পন্যের
প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তারা হয়ে উঠেছে
বিশ্ব বানিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি।
উপযুক্ত মুল্য দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে
দেবে যার গ্যারান্টি চাইলে ১০০ বছরও দিতে
পারবে।
গত সেপ্টেম্বরে চীনের টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর
সাথে এক বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি
কেকিয়াং উদ্যোক্তা ও নতুন নতুন আবিষ্কার
করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান
জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও
উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া
হচ্ছে।
লি বলেছে, ‘কলেজ পাশ করা শিক্ষার্থীদের
ন্যায্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উদ্যোক্তা
হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে
সকলের প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
কে দেশের কোন অঞ্চল থেকে এসেছে, তা
বিবেচনা করা হয় না।'
সরকারের এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে চীনের
তরুণ উদ্যোক্তাদের দ্রুততম সময়ে বিলিওনিয়ার
হতে সাহায্য করছে।
চীনের এসব বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে
টেকনোলজি সেক্টর থেকে এসেছে ১৯
শতাংশ, কনজ্যুমার এন্ড রিটেইল থেকে ১৫
শতাংশ এবং রিয়েল এস্টেট থেকে এসেছে ১৫
শতাংশ। চীনে ই-কমার্স এক অভ্যুত্থানের সৃষ্টি
করেছে। মোটকথা চীনের নগরায়ণ ও ভোক্তা
বৃদ্ধি পাওয়াতে সেখানে ব্যবসার দ্রুত প্রসার
ঘটছে।
বাংলাদেশেও সিমফোনি, ওয়ালটনসহ বহু
প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে
খাচ্ছে। আমাদের উচিত চীনের মত একটা
পদক্ষেপ নেয়া। চাকরী করে দেশের উন্নতি হয়
না, আমাদের উদ্যোক্তা প্রয়োজন। চাই শিক্ষা
ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন, গুরুত্ব দেয়া উচিত
কর্মমুখী শিক্ষায়। সরকার একটু সচেতন হলেই খুব
অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা এই দেশের
চেহারা পালটে দিতে পারি। কারণ জাতি
হিসাবে আমরা বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী।
তথ্য সূত্র : ইউবিএস (ব্যাংক) এবং
পিডব্লিউসি'র ২০১৫ সালের ‘বার্ষিক
বিলিয়নিয়ার প্রতিবেদন