01/09/2015
মানুষ ফেসবুকে লাইক/কমেন্ট পাওয়ার আশায় কতো নিচে নামতে পারে তা নজিরবিহীন। কেউ কেউ আবার ফেসবুকে লাইক কমেন্ট পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ঈমানহারা হয়ে যায়।
১.
আমরা অনেকে এ রকম পোস্ট দেখি যে, একটি ইসলামিক ছবি শেয়ার করা হয়েছে। নিচে লেখা, "আপনি যদি মুসলমান হন তবে শেয়ার করুন, নতুবা আপনি কাফির"। এখন আমার প্রশ্ন হলো, কেউ ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার না করার কারনে কাফির হওয়ার কোন দলিল কোর'আন, হাদিস, ইজমা, কিয়াসে নেই। আর মানুষকে উপযুক্ত প্রমান ছাড়া কাফির বলা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ।
হয়তোবা একজন গুমরাহ এই ধরনের পোষ্ট করে লাইক/কমেন্টের বিজনেস করছে। কিন্তু আমরাও কি কম যাই? পোষ্টে গিয়ে দেখবেন হাজার হাজার শেয়ার হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। শেয়ার করা,লাইক দেওয়া বা কমেন্ট করার মাধ্যমে কি আমরা এইসব গুমরাহীকে উৎসাহিত করছি না।
২.
আরেকটি পোষ্ট দেখলাম, মদিনা শরীফে ২লক্ষ হুজুর স্বপ্নে দেখেছেন.... এই খবর ১০জনের কাছে শেয়ার করলে ১০দিনের মধ্যে একটি ভালো খবর পাবেন নতুবা ১০বছরের মধ্যে কোন ভালো খবর পাবেন না।
এই পোস্টটা ভাইরাল হয়ে গেছে। একদিন সোবহানিঘাট মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখলাম একজন এই পোস্ট কাগজে প্রিন্ট করে সবাইকে বিতরন করছে।
২ লক্ষ মানুষ স্বপ্নে দেখেছেন কিন্তু বিষয়টা কেউ জানলো না! শুধুমাত্র যিনি পোস্টটা লিখেছেন তিনি জানলেন! এইসব পোস্টের মাধ্যমে কি মানুষের ঈমানকে দূর্বল করে দেওয়া হচ্ছে না? হয়তো আল্লাহ পাক কারো তাক্বদিরে ১০দিনের মধ্যে ভালো কোন সংবাদ লিখে রাখেন নি, কিন্তু সে অনেক আশা নিয়ে এই পোস্টটা ১০জনের কাছে শেয়ার করলো। যদি কোন ভালো সংবাদের দেখা না পায় তবে কি তার বিশ্বাসে দূর্বলতা আসবে না?
*আমরাই এদেরকে উৎসাহিত করছি লাইক/কমেন্ট/শেয়ার দেওয়ার মাধ্যমে। আমরাই গোমরাহীকে ছড়িয়ে দিচ্ছি সবার কাছে। আর যারা লাইক/কমেন্ট/ শেয়ারের লোভে আল্লাহ, রাসূল (সা:) কে ব্যবহার করছে তারা কোন কোন সময় অতিরঞ্জন করতে গিয়ে ঈমানহারা হচ্ছে।