09/01/2026
রাশিয়ার একজন তথাকথিত জাদুকর বা অকাল্টিস্ট (Occultist) ঝান্না কুশনির (Zhanna Kushnir)
একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জাদুর প্রভাব এবং এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আধ্যাত্মিক সাধনা বা জাদুর মাধ্যমে সব মানুষকে সমানভাবে প্রভাবিত করা সম্ভব হয় না।
তিনি জানান যে, একজন প্রকৃত মুসলিমকে জাদুর মাধ্যমে প্রভাবিত করা প্রায় অসম্ভব। তার মতে, মুসলিমরা তাদের স্রষ্টার (আল্লাহর) সাথে এক অনন্য এবং সার্বক্ষণিক আত্মিক সংযোগ বজায় রাখে। তাদের নিয়মিত নামাজ এবং ইবাদত তাদের চারপাশে একটি "অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়" (Invisible Dome) তৈরি করে।
ঝান্না কুশনির একটি বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি কোনো অমুসলিমকে নিয়ে জাদুর প্রক্রিয়া শুরু করেন, তখন খুব সহজেই সেই ব্যক্তিকে তার কল্পনায় বা 'ভিশনে' নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু একজন নিষ্ঠাবান মুসলিমের ক্ষেত্রে তিনি তা পারেন না। এমনকি তার সামনে সেই ব্যক্তির ছবি থাকলেও তিনি তার অবয়ব বা অস্তিত্বকে আধ্যাত্মিকভাবে স্পর্শ করতে পারেন না। তার কাছে মনে হয়, সেই ব্যক্তিটি যেন অদৃশ্য হয়ে গেছেন বা কোনো এক শক্তিশালী দেয়ালে ঢাকা পড়ে আছেন।
তিনি স্বীকার করেন যে, একজন মুসলিমের ওপর জাদু প্রয়োগ করতে গেলে তিনি বারবার বাধাগ্রস্ত হন। কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তার জাদুকরী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দেয় না। উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই বিশেষ সুরক্ষা এবং অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রধানত মুসলিমদের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করেছেন।
সূরা নাহল-এর ৯৯ নম্বর আয়াতটি এই ঘটনার একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা প্রদান করে:
اِنَّہٗ لَیۡسَ لَہٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ
"নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করেছে, তাদের ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য নেই।" (সূরা আন-নাহল: ৯৯)
ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, নামাজ, জিকির এবং আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই সাক্ষাৎকারটি সেই চিরন্তন সত্যেরই একটি সমসাময়িক বাস্তব স্বীকৃতি।
এই ভিডিওটি মূলত রাশিয়ান ভাষায় ছিল, যা পরবর্তীতে ইংরেজি ও বাংলা সাবটাইটেলসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
#রহস্যময় #অজানা