22/09/2024
।। সমাজ কে দোষ দিয়ে লাভ নাই সমাজ আমাদের দিয়ে গড়ে উঠে ।।
বেশি দিন আগের কথা না। এই ২০০৬ সালের দিকে, সেই সময় থেকে আমি ঢাকাতে একটা ছোট চাকুরি করতাম এমন না যে চাকুরিটা খুব দরকার ছিল। শুধু তাই নিজের একটা পরিচয় এর জন্য করতাম, বাবা মাকে, একটু সাহায্য করার চেষ্টার প্রয়াস ছিল মাত্র।
একটা পিছনের দিকে যদি তাকাই দেখি আমাদের বেড়ে উঠাটা ...
ভোরে প্রাইভেট পড়তাম ... সেখান থেকে ফিরে সকালের নাস্তা করে স্কুলে যেতাম ... টিফিন এর সময় বাসায় যেতাম দুপুর এর খাবার খেতে, আবার স্কুল । স্কুল শেষে বাসায় ফিরে কখনো নাস্তা করে অথবা না করে মাঠে যেতাম খেলতে......
সবাই একটু মনে করে দেখলে দেখবেন একটা উন্মত্ত খেলাধুলা করেও সবার মাথায় থাকত মাগরিবের নামাজের আগে বাসায় ঢুকতে হবে। না হলে বাসায় আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করত তা মনে হয় আর মনে করিয়ে দিতে হবে না।
এখন আসি আগের কথায়... চাকুরির ছুটি তে একবার বাড়ি গিয়েছি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরছি তখন হয়ত রাত ৮টা বাসায় ফিরার পথে দেখি আমার বাড়ির পাশের বাড়ির এক ছেলে রাস্তায় আরো কতকজনার সাথে গল্প করছে। আমার কাছে বিষয় টা অসামঞ্জস লাগে এই জন্য আমি বাসায় গিয়ে অর মায়ের সাথে দেখা করলাম।
তার সাথে কথাগুলি আমার এখনো মনে আছে
আমি ঃ খালাম্মা রন কে দেখলাম বাহিরে আড্ডা দিচ্ছে আপনি জানেন?
খালাম্মাঃ হু জানি ত আমাকে বলে গিয়েছে। ওদের কি জানি মিটিং আছে কলেজের বড় ভাইরা যেতে বলেছে (বি দ্র ঃ রন তখন ক্লাস নাইনে পড়ে)
আমিঃ আপনি এত রাতে অকে যেতে দিলেন অর পড়া নাই?
খালাম্মাঃ কলজের বড় ভাই নেতারা অকে খুব পছন্দ করে মিটিং মিছিল হলেই অকে ডেকে নিয়ে যায়। ও ত অমুক নেতা তমুক নেতাদের সাথে থাকে।
আমি ঃ স্কুলে যায় না?
খালাম্মাঃ যায় ত । ক্লাস করে কিনা জানি না।
আমি ঃ খালুজান কিছু বলে না?
খালাম্মা ঃ ও ত তার কথা শুনেই না।
আমি আর বেশি কথা না বলে নিজের বাসায় চলে আসলাম।
এইটা একটা ছোট ঘটনা কিন্তু তখনি আমার মনে হয়েছে পরের যে প্রজন্মটা আমাদের দেশে আসছে তাদের প্রকার কেমন হবে।
এই ত সেদিন এক পরিচিত আংকেল হেসে হেসে বলছে ... বাবা একটা এপাচি মটর সাইকেল এর দাম কত । আমি মসকরা করে বললাম এই বয়সে আর কি এপাচি চালাবেন অন্য কিছু কিনেন আপনার জন্য ভাল হবে।
আংকেল দিগুন হাসি দিয়ে বলল আরে আমার জন্য না তোমার ছোট ভাইয়ের জন্য ।
আমি অবাক হয়ে বললাম কি বলেন আপনার ছেলে না ক্লাস নাইন এ পড়ে ওকে আপনি ওকে মটর সাইকেল কেন কিনে দিবেন ওর ত লাইসেন্স করার বয়স হয় নাই। ও কিভাবে চালাবে?
আংকেল ঃআর বইল না আমিও তাই বলছিলাম আগে মেট্রীক টা পাশ কর তার পর কিনে দিব। "সে বটি নিয়া আমারে মারতে আসছিল"। দেখ দেখি কান্ড এখন অর মা বলতেছে আজকের মধ্যে আমার পোলারে মটর সাইকেল না কিনা দিলে বাড়িতে ভাত রান্ধন বন্ধ। তাই বিপদে পইড়া ব্যাংকে যাইতেছি প্রভিডেন্ট ফান্ড ভাইঙ্গা টেকা উঠামু আল্লাহ জানে কত টাকা আছে। এপাচি একটা কিনতে পারমু কিনা আল্লাহ ভাল জানে।
এই যে দুইটা ঘটনা আমরা ত এর মধ্যেই আছি এই গুলা আমাদেরই বানানু ঘটনা ... তাহলে আর অবাক হয়ে কি হবে।
একটা ছেলেকে ঢাকায় পড়াতে পাঠালে তার জন্য একটা ফ্লাট ভারা করতে হয় তাকে ফ্রিজ কিনে দিতে হয় এসি লাগিয়ে দিতে হয়। আমরাই ত অদের পশ্রয় দিচ্ছি অদের সহনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছি । সমাজ কে দোষ দিয়ে লাভ নাই সমাজ আমাদের দিয়ে গড়ে উঠে।
আজ আরেকটা ঘটনা শুনলাম এক ছেলে নাকি ঢাকায় পড়বে তাই তাকে কোন এক আত্মীয়ের বাসায় রাখার জন্য বাবা মা পাড়া প্রতিবেশিকে নাকি রেখে আসতে হবে ( শুনলাম ছেলে নাকি লজ্জা পায়) ।। ভাবুন একবার আপনি যখন বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিতে এসেছেন কে কে এসেছিলো আপনাকে রেখে যেতে?
সত্যি বলতে কি এমন এক অথর্ব জাতি আমরা আবেগ দিয়ে তৈরি করছি যারা আবেগ দিয়ে জীবন দিতে প্রস্তুত আছে কিন্তু বিবেক দিয়ে চিন্তা করার সক্ষমতা লোপ পেয়ে যাচ্ছে।।
ভেবে দেখুন আদর সোহাগ দিয়ে আমরা এদের ভবিষ্যৎ কে বিপদে ফেলে দিচ্ছি না ত?
আপনার সন্তানের চাহিদা পূরনের জন্য আপনাকে কোন অসততার আশ্রয় নিতে হচ্ছে না ত?
আসুন আগে নিজেকে বদলাই সমাজ আপনা আপনি বদলে যাবে।।