29/11/2025
গ্রামের ভোরটা তখনো পুরো জেগে ওঠেনি।
মাটির ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে রহিম দূরে তাকিয়ে আছে। আজ তার বাড়িতে বড়লোক করিম সাহেব আসবেন।
বুকের ভেতর দুশ্চিন্তা, কিন্তু আনন্দও আছে।
রহিমের স্ত্রী এসে বলল,
“শোনো, আজ শুধু ডালভাত দিলে ঠিক হবে? লোকটা শহরের মানুষ…”
রহিম ধীরে মাথা নাড়ল।
“না, আজ একটু ভালোটা করি। আমাদের দাওয়াত—সম্মান রাখতেই হবে।”
সামান্য জমানো টাকা।
বাজার থেকে কিনে আনা ছোট্ট একটা মুরগি।
চুলোর আগুনে হাঁড়ি চড়তেই বাড়ির ভেতর উৎসবের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
রহিমের ছোট মেয়ে লাজুক হাসিতে বলল,
“বাবা, মনে হচ্ছে আজ ঈদ!”
রহিম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে হেসে উঠল,
কিন্তু তার নিজের বুকটা একটু ভারী হয়ে উঠল—
সত্যিই তো, অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের উৎসবও ছোট হয়ে যায়।
করিম সাহেব এলো, হাসিমুখে খেলো, প্রশংসা করল খাবারের।
রহিম আর তার স্ত্রী সেদিন রাতটা ঘুমাল হাসিমুখে,
যেন একটা বড় দায়িত্ব শেষ হয়েছে।
________________________________________
কয়েকদিন পর করিম সাহেব রহিমকে দাওয়াত করলেন।
রহিম ভেতরে ভেতরে ভাবছিল—
“ওনারা তো শহরের লোক, বড়লোক… আজ বুঝি জীবনে প্রথমবার একটা ‘আসল দাওয়াতের’ স্বাদ পাব।”
বাড়িটা ছিল দোতলা, রঙিন, চোখ ধাঁধানো।
রহিম গেট দিয়ে ঢুকতেই নিজের পাঞ্জাবিটার দিকে তাকিয়ে একটু লজ্জা পেল।
টেবিলে খাবার এল।
সাদা ভাত, ডাল, একটু সবজি।
একদম সেই খাবার—
যা রহিম প্রতিদিন খায়।
রহিম চুপচাপ খেল।
কিন্তু প্রতিটি লোকমার সঙ্গে বুকের ভেতর একটি ছোট্ট প্রশ্ন কাঁটার মতো বিঁধছিল—
“আমরা তো আমাদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ওদের জন্য আয়োজন করি…
তারা কেন পারে না?”
ফিরে যাওয়ার সময় আকাশটা একটু মেঘলা ছিল।
রহিম সেই মেঘের দিকে তাকিয়ে বুঝল—
কেউ দরিদ্র হওয়া মানে শুধু টাকার অভাব না,
অনেক সময় মানুষের চোখে গুরুত্ব কমে যাওয়াও দরিদ্রতা।
সেদিন সে উপলব্ধি করল—
গরিব যখন বড়লোককে দাওয়াত দেয়, ডালভাতও উৎসব হয়ে যায়।
আর বড়লোক যখন গরিবকে দাওয়াত দেয়, উৎসবও ডালভাত হয়ে থাকে।
©BD Boy on the way