28/07/2026
২৮ জুলাই: ত্রিপুরার চার বলিদানি প্রচারকের অমর আত্মত্যাগ—রাষ্ট্রসেবার এক চিরন্তন প্রেরণা:
২৮ জুলাই,এটি শুধু একটি দিন নয়; এটি আত্মত্যাগ, আদর্শ, তপস্যা এবং রাষ্ট্রসেবার এক চিরন্তন স্মারক।
১৯৯৯ সালের ৬ আগস্ট, ত্রিপুরার ধলাই জেলার কাঞ্চনছড়া কল্যাণ আশ্রমে একটি সাংগঠনিক বৈঠক শেষ করে বেরিয়ে আসার মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের চারজন নিবেদিতপ্রাণ প্রচারককে সশস্ত্র জঙ্গিরা অপহরণ করে। এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই বছর তাঁদের বন্দি অবস্থায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অবশেষে ২০০১ সালের ২৮ জুলাই তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভেবেছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করে আদর্শকে স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, শরীরকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে কখনও নয়।
আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি—
** স্বর্গীয় শ্যামলকান্তি সেনগুপ্ত (৬৮)
** স্বর্গীয় শুধাময় দত্ত (৫১)
** স্বর্গীয় দীনেন্দ্রনাথ দে (৪৬)
** স্বর্গীয় শুভঙ্কর চক্রবর্তী (৩১)
চারজনই ছিলেন বাংলার গর্বিত সন্তান। উচ্চশিক্ষা, সম্ভাবনাময় কর্মজীবন, পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সবকিছু স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে তাঁরা সমাজের অবহেলিত মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক জাগরণ এবং জাতীয় চেতনা গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের জীবন ছিল নিঃস্বার্থ সেবা, চরিত্রগঠন ও আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তাঁদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের প্রশ্ন করে, আমরা কি তাঁদের দেখানো পথেই হাঁটছি? আমরা কি ব্যক্তিগত অহংকার, পদমর্যাদার মোহ ও আত্মস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণকে জীবনের ব্রত করতে পেরেছি?
আজ আমরা যে সংগঠন, সমাজ বা জাতীয় জীবনের যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ভিত্তি নির্মিত হয়েছে অসংখ্য অজ্ঞাত ও পরিচিত আত্মবলিদানী কর্মীর ত্যাগ, তপস্যা এবং রক্তের বিনিময়ে। তাই আজকের এই পবিত্র দিনে আমাদের সংকল্প হোক, নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য; পদমর্যাদার জন্য নয়, কর্তব্যের জন্য; অহংকারের জন্য নয়, আদর্শের জন্য বাঁচব।
আত্মত্যাগের এই ইতিহাস আমাদের সতর্কও করে। মতাদর্শের সংঘাত কখনও যেন মানবিকতার সীমা অতিক্রম না করে। ভিন্নমত থাকতে পারে কিন্তু সহিংসতা কখনও কোনো সভ্য সমাজের পথ হতে পারে না। তাই ইতিহাসকে স্মরণ করার অর্থ প্রতিশোধ নয় বরং আদর্শ, চরিত্র, আত্মসংযম এবং সমাজসেবার পথে আরও দৃঢ় হওয়া।
আজ সেই চার অমর বলিদানির বিদেহী আত্মার প্রতি জানাই শতকোটি প্রণাম।
পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তাঁদের পবিত্র আত্মা চিরশান্তি লাভ করুন। তাঁদের ত্যাগ আমাদের বিবেককে শুদ্ধ করুক, চরিত্রকে দৃঢ় করুক এবং মানুষের কল্যাণ, সমাজের উন্নতি ও রাষ্ট্রসেবার পথে আজীবন অবিচল থাকার শক্তি দান করুক।
রাষ্ট্র সর্বোপরি।
সেবা সর্বাগ্রে।
বলিদান কখনও বৃথা যায় না।
শহিদদের আত্মত্যাগ চির অমর।