24/05/2026
শুরুটা একদম শূন্য থেকে। পাশে খুব বেশি কেউ নেই—হয়তো একজন বা দু’জন, যারা চুপচাপ বিশ্বাস করে যাচ্ছে, প্রশ্ন না করেও পাশে থাকে। এখনও কিছু গড়ে ওঠেনি, দেখানোর মতো বড় কোনো ফল নেই, কোনো “প্রমাণ” নেই যে আমি ঠিক পথেই আছি। তবুও আমি শুরু করেছি—কারণ ভিতরে কোথাও মনে হয়েছিল, অন্তত চেষ্টা না করলে কখনোই জানতাম না আমি আসলে কী করতে পারি।
এই পথটা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ভেতরে ততটাই অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়—ঠিক করছি তো? সময় নষ্ট করছি না তো? যখন সবাই একটা স্থির জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে, তখন আমি এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার নিজের দিকটা। অনেক সময় মনে হয় আমি পিছিয়ে পড়ছি। তুলনা করতে ইচ্ছে করে, নিজেকে ছোট লাগে, আর তখনই নিজের ওপর বিশ্বাসটা টলমল করে ওঠে।
সবচেয়ে কঠিন হয় যখন মানুষ জানতে চায়—“কী করছ এখন?” “কত টাকা আয় হচ্ছে?” তখন বুঝিয়ে বলা যায় না যে আমি এখনো কিছু বানাচ্ছি, এখনো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। কারণ এই পথের শুরুতে সবসময় কোনো নির্দিষ্ট পে-স্কেল থাকে না, কোনো গ্যারান্টি থাকে না। অনেকেই বোঝে না, আর হয়তো বোঝার দরকারও নেই। কারণ এই যাত্রাটা একদম ব্যক্তিগত—এখানে তোমাকেই নিজের কারণ খুঁজে নিতে হয়।
তবুও আমি থামিনি। কারণ ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি, এই অনিশ্চয়তাই আমাকে গড়ছে। প্রতিটা ছোট চেষ্টা, প্রতিটা ভুল, প্রতিটা শেখা—সব মিলিয়ে আমি নিজেকে নতুন করে চিনছি। আগে আমি শুধু ফলাফল নিয়ে ভাবতাম, এখন আমি প্রক্রিয়াটাকে গুরুত্ব দিতে শিখছি। আগে নিশ্চিততা চাইতাম, এখন অজানাকে গ্রহণ করতে শিখছি।
ভবিষ্যৎ এখনও পরিষ্কার না। কী হবে, কোথায় পৌঁছাবো—সেটার কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার—আমি চেষ্টা করছি। আমি নিজের মতো করে এগোচ্ছি, যদিও গতি ধীর। আর হয়তো এটাই যথেষ্ট।
সবকিছু এখনো তৈরি হয়নি—কিন্তু আমি তৈরি হচ্ছি। নিজের ভয়কে সামলে, নিজের সন্দেহকে পেরিয়ে, আমি প্রতিদিন একটু একটু করে এগোচ্ছি। একদিন হয়তো এই শূন্য থেকেই একটা গল্প তৈরি হবে। আর তখন বুঝতে পারব—এই একাকী, অনিশ্চিত শুরুটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।