05/11/2020
আজ সন্ধ্যায় মিলবে জল, আশাবাদী ইঞ্জিনিয়াররা
মঙ্গলবার রাতেই বাঁধের কাজ শেষ করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল স্রোত। আর বুধবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভেঙে যাওয়া ৩১ নম্বর লকগেট মেরামতির কাজে নেমে পড়েন ডিএসপি-র কর্মীরা। যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে এদিন রাতের মধ্যেই মেরামতির কাজ মিটে যাবে বলে আশাবাদী কর্মীরা। সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সকালে জল ছাড়া হবে মাইথন থেকে। এদিন সেচ দপ্তরের সচিব গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বৃহস্পতিবার দুপুরে লকগেট মেরামতির কাজ শেষ হয়ে যাবে। সন্ধ্যা থেকে জল পাবেন দুর্গাপুরের মানুষ।'কী ভাবে হচ্ছে মেরামতির কাজ? আপাতত অস্থায়ী ভাবে মেরামত করা হচ্ছে ৩১ নম্বর লকগেটটি। মেরামতির শেষে জলস্তর ১১ ফুট উচ্চতায় পৌঁছলে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে একটি ফ্লোটিং গেট। সেই ফ্লোটিং গেট বসানো হবে ৩১ নম্বর লকগেটের পিছনে। তার পরে ভাঙা লকগেট টুকরো টুকরো করে কেটে সরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানে বসানো হবে একটি নতুন গেট। সেচ দপ্তরের টেকনিক্যাল বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, 'ব্যারাজে সাধারণত ১৯ ফুট জল থাকে। যেহেতু ৩১ নম্বর লকগেটটি অস্থায়ী ভাবে মেরামত করা হচ্ছে, ফলে ১১ ফুট উচ্চতার জলস্তর হলেই আমরা ফ্লোটিং গেট এনে ভাঙা গেটের পিছনে বসিয়ে দেব। যে ভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে ১১ ফুট জলের চাপ নিতে পারবে মেরামত করা গেটটি।' এদিন সকালে ডিএসপি-র কর্মীরা কাজে হাত লাগানোর পর অনেকটা চাপমুক্ত দেখা যায় সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের। দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় সিং বলেন, 'অবশেষে কাজ শুরু করা গিয়েছে। যে গতিতে কাজ হচ্ছে, আশা করা যায় বুধবার রাতের মধ্যে মেরামতির কাজ শেষ হয়ে যাবে। আশা করা যায়, শুক্রবার সকালের মধ্যে দুর্গাপুর ব্যারাজ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।'মঙ্গলবার বিকেল থেকেই অবশ্য তৈরি ছিলেন ডিএসপি-র কর্মীরা। এদিন বাঁধের ভিতর থেকে জল বের করার পরই কাজে হাত লাগান তাঁরা। মেরামতি পর্যবেক্ষণে এদিন সকাল থেকেই ব্যারাজে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার একাধিক ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিক। দেখা যায়, ভাঙা লকগেটটি ওপরে উঠে গিয়ে একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি করেছে। সেখানে লোহার প্লেট বসিয়ে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়। ডিএসপি-র জনসংযোগ আধিকারিক বেদবন্ধু রায় বলেন, 'আমাদের দক্ষ কর্মীরা মেরামতির কাজ করছেন। সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরাও উপস্থিত রয়েছেন। তাঁরা কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাদের তরফে সবরকম কারিগরি সাহায্য দেওয়া হচ্ছে।' এদিন বিকেলে ব্যারাজ পরিদর্শনে আসেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি ও মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে। মেরামতির কাজে সন্তোষপ্রকাশ করেন তাঁরা।অন্য দিকে, জলের জন্য শহর জুড়ে হাহাকার ছিল বুধবারও। পুরসভা ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহ করছে ঠিকই কিন্তু, তাতে জলের চাহিদা মিটছে না। এর মধ্যে জল সরবরাহ ঘিরে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড সেপকো টাউনশিপে। অভিযোগ, এখানে পুরসভার ট্যাঙ্কারে জল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শাসকদলের কয়েকজন কর্মী সেই ট্যাঙ্কার নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। ইচ্ছামতো জল তুলে নেয় তারা। এই ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে মেয়র দিলীপ অগস্তি বলেন, '৮০টি ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া যায়। কিন্তু কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আমাদের কাছে জল সরবরাহ নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ করেছেন। এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।'