21/04/2026
মালদা: এ যেন ভালোবাসার ‘ গুরুদক্ষিণা’! ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই দৃশ্য। মতিবুর রহমানকে আর্থিক সাহায্য করলো এক হতদরিদ্র এক বৃদ্ধা। নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপে যখন হরিশ্চন্দ্রপুর প্রায় ফুটছে, ঠিক তখনই ঘটল এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তে ভাইরাল।রাজনীতির মঞ্চ ছাপিয়ে মানবিকতার বিস্ফোরণ! তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের জনসংযোগ চলছিল চরম তুঙ্গে। ভিড়, স্লোগান, ক্যামেরার ঝলকানি—সব কিছুর মাঝেই হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ালেন এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। পরনে মলিন শাড়ি, চোখে জীবনের ক্লান্তি, কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। আঁচলের কোণ খুলে তিনি বের করলেন কিছু টাকা—আর সোজা তুলে দিলেন মতিবুরের হাতে!
মুহূর্তেই স্তব্ধ চারপাশ। যে মানুষটিকে এতদিন ‘গরিবের ভরসা’ বলে জেনেছে এলাকা, তাকেই আজ সাহায্য করছে এক অভাবী বৃদ্ধা! এ যেন রাজনীতির হিসাব উল্টে দেওয়া দৃশ্য—এ যেন ভালোবাসার ‘গুরুদক্ষিণা’! বৃদ্ধার চোখে তখন জল আর তৃপ্তির মিশেল—“আপনি আমাদের জন্য করেছেন, এটা আমার পক্ষ থেকে”—এই না-বলা কথাই যেন ভেসে উঠল সেই মুহূর্তে। আর ঠিক তখনই আবেগে ভেঙে পড়লেন মতিবুর রহমান। জনতার সামনে এই দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখ মুছলেন চুপচাপ।
এলাকাবাসীর মতে, এটা হঠাৎ নয়—এটা তার কাজের জবাব। ইতিমধ্যেই অগুনতি পরিবারকে আর্থিক সাহায্য, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একাধিক নজির, আর ভোটের আগেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি—দুই কোটি টাকা খরচ করে দরিদ্রদের সহায়তা। ফলে আজ হরিশ্চন্দ্রপুরে একটাই নাম—মতিবুর! প্রচারে নামলেই এখন সেলফির ঝড়, ভিড় সামলানো দায়। যুব সমাজ যেন তাকে ঘিরেই নতুন আশা দেখছে। বিরোধীরা যেখানে প্রচারে ব্যস্ত, সেখানে মতিবুরের মাঠ দখল—এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল।
এই ঘটনার পর মতিবুর রহমান বলেন,“মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে। আমি তাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না।”
ভোটের লড়াই যতই তীব্র হোক, হরিশ্চন্দ্রপুরে এখন একটাই আলোচনা—এক বৃদ্ধার কাঁপা হাতে লেখা ইতিহাস।রাজনীতির মঞ্চে আজ স্পষ্ট—ভোট শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটা হৃদয়েরও লড়াই!