Babu Sardar

Babu Sardar ইসলামিক মিডিয়া

04/05/2025
29/04/2025

চেতন শর্মা নামে এই হিন্দু পুলিশকর্মী ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মুম্বাইয়ের চলন্ত ট্রেনে মুসলিম যাত্রীদের টার্গেট করে গুলি চালিয়ে তিনজন মুসলিমসহ তারই মুসলিম সহকর্মীকে হ|ত্যা করে।
হ্যাঁ, এটা একটি ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ছিল।
আর দুঃখের বিষয়, আজও তার ঠিকমতো বিচার হয়নি।

এটাই তো মুসলিমদের শিক্ষা — একজনের অপরাধকে পুরো জাতির অপরাধ বলে ধরে নেয় না। কিন্তু গদিমিডিয়া এবং হুনুমান বাহিনী কাশ্মীর হামলা বা অন্য যেকোনো ঘটনার পর পুরো মুসলিম জাতিকে টার্গেট করে,উস্কানি দিয়ে দা|ঙ্গা বাধায়, গ্রেফতার করে, হেনস্তা করে।
এ যেনো একটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম নি|ধন চলছে।

সত্যিকারের ন্যায়বিচার আজকে প্রশ্নবিদ্ধ।
কিন্তু তবুও মুসলিমরা ধৈর্য ধরছে, শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে — কারণ ইসলাম শান্তি ও ন্যায়বিচারের ধর্ম।

___________________
ব্রাদার রাহুল হোসেন রুহুল আমিন
২৬ এপ্রিল ২০২৫
জলঙ্গি -মুর্শিদাবাদ- ভারত

12/12/2022
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
13/10/2021

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

ইসলামিক মিডিয়া

09/08/2021

কথা গুলি শুনুন আপনার কাছে আসবে

09/08/2021

ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দি হানাফিরা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আকিদা ও আদর্শচ্যুত: ঐতিহাসিক প্রমাণ

প্রশ্ন: মাজহাবিদের সহিহ দীনের দাওয়াত দেয়া শুরু করার উপায় কি? ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দি হানাফিগণ কি ইমাম আবু হানিফা রাহ. কে অনুসরণ করে?

উত্তর:
আমাদের সর্ব প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে, মানুষকে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের সোনালী যুগ (খাইরুল কুরূন) এর মানুষ তথা নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবি এবং তাবেঈদের যে আকিদা-বিশ্বাস ছিল সে দিকে দাওয়াত দেয়া।

বর্তমান যুগের প্রচলিত চার মাজহাবের অনুসারীরা যদি তাদের ইমামদের আকিদাকে সঠিকভাবে গ্রহণ করতো তাহলে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে, তারা অধিকাংশই তাদের মাজহাবের ইমামদের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করে পরবর্তী যুগের অন্য কারও আকিদা-বিশ্বাসকে গ্রহণ করেছে!
শুনে আশ্চর্য মনে হলেও এটাই বাস্তবতা।

যেমন: হানাফি-দেওবন্দিগণ আকিদার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আকিদাকে পরিত্যাগ করে আবুল হাসান আশয়ারি রহ. ও ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদি রহ. কে গ্রহণ করেছে।
প্রমাণ দেখুন:
বিখ্যাত দেওবন্দি আলেম খলিল আহমদ সাহারানপুরি রহ. [মৃত্যু: ১৩৪৬ হি.] তার ‘আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে লিখেছেন:

“প্রথমত: আমাদের শায়খগণ, আমাদের সমস্ত জামাত ও দল আল-হামদুলিল্লাহ শাখাগত মাসয়ালা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে ইমাম আজম ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মাজহাবের অনুসারী। উসুলুদ্দীন তথা দ্বীনের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ইমাম আবুল হাসান আশআরী রহ. ও ইমাম আবু মনসুর মাতুরীদি রহ. এর অনুসারী। সুলুক ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দীয়া তরীকার সাথে সম্পর্ক রাখি।”
খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহ. কর্তৃক রচিত এই গ্রন্থে দেওবন্দের সমস্ত উলামায়ে কেরাম সত্যায়ন ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। যেমন:
- শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহ.
- হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ.
- উসওয়াতুস সুলাহা হযরত মাওলানা শাহ আব্দুর রহীম রাইপুরী রহ.
- বাকিয়্যাতুস সালাফ হযরত মাওলানা হাফেজ মোহাম্মাদ আহমদ সাহেব.
- মুফতি আজম হযরত মাওলানা কিফায়াতুল্লাহ সাহেব।
এছাড়াও শীর্ষস্থানীয় দেওবন্দি উলামায়ে কেরামের সত্যায়ন রয়েছে। এটি ১৩২৫ হিজরিতে প্রকাশিত হয়। সর্বস্তরের দেওবন্দি উলামায়ে কেরামের সত্যায়ন থাকায় পুস্তকটি দেওবন্দি আকিদা বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক সনদ অর্জন করেছে।" ['আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ’ (বাংলা অনুদিত) গ্রন্থের ভূমিকা থেকে নেয়া]

আর বর্তমানেও এ কথা দেওবন্দি আলেমগণ অকপটে স্বীকার করে।

তাহলে তাদের দাবী অনুযায়ী তারা শাখাগত মাসআলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর অনুসরণ করে। এছাড়া আকিদা (যা শাখাগত মাসআলা-মাসায়েল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ) ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করে না।

ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দি হানাফিরা যদি ইমাম আবু হানিফা রহ. কর্তৃক রচিত 'আল ফিকহুল আকবার', (যদিও এটি তাঁর লেখা কি না তা মতবিরোধপূর্ণ), বিখ্যাত হানাফি আলেম ইমাম আবু জাফর ত্বাহাবি রহ. [মৃত্যু: ৩২২ হি.] কর্তৃক রচিত ‘আক্বীদা ত্বাহাবিয়া’ এবং আরেক বিখ্যাত হানাফি আলেম ইবনে আব্দিল ইয আল হানাফি [জন্ম: ৭৩১, মৃত্যু: ৭৯২ হি.] কর্তৃক তার বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শারহু আক্বীদা ত্বাহাবিয়া' গ্রন্থে বর্ণিত আকিদাকেও গ্রহণ করত তাহলে তাদের মাঝে আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ বা সালাফি/আহলে হাদিসদের মাঝে আকিদাগত বিষয়ে মৌলিক কোন বিরোধ থাকত না (সামান্য কিছু ছাড়া)।

উক্ত স্বীকারোক্তি থেকে এও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রেও দেওবন্দি হানাফিদের নিকট ইমাম আবু হানিফা রহ. উপেক্ষিত। এর পরিবর্তে তারা নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দীয়া তরীকার অনুসরণ করে!
সে কারণে স্বভাবতই তারা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আদর্শচ্যুত হয়ে বিদআতি পীর-মুরিদি প্রথায় ডুবে গেছে। আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে তারা ইমাম আবু হানিফা রহ. কে অনুসরণ করলে কখনো পীর-মুরিদি নামক বিদআতে লিপ্ত হতো না। কারণ ইমাম আবু হানিফা রহ. কোথাও এসব বিদআতের পক্ষে ফতোয়া দেন নি।

অথচ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি হল, আকিদা, আমল, উসুল-ফুরু (মূল-শাখা) বিধিবিধান, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফুল উম্মাহ তথা রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম, সাহাবি, তাবেঈদের আকিদা ও মানহাজ গ্রহণ করা। এর বাইরে গেলেই গোমরাহি নিশ্চিত।

সুতরাং আমাদের কর্তব্য, সর্বপ্রথম আকিদাচ্যুত মুসলিমদেরকে কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবি-তাবেঈ প্রমুখ সালাফদের নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন আকিদা ও মানহাজের দিকে আহ্বান জানানো। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর নেই।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
الله أعلم بالصواب وهو الهادي الى سواء السبيل.

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

19/05/2021

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ! কুরআন হাদীসের আলোকে ইসরাইলের হাত থেকে মুক্তির উপায় ডাঃ জাকির নায়েক

17/05/2021

মক্কা-মদীনার চেয়েও ঘটনাবহুল-সিরিয়া সম্পর্কে রাসুল (সা-) এর ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী -শায়খ আহমাদুল্লাহ

30/04/2021

*শিরক কাকে বলে? কত প্রকার? কি কি?*
⚜⚜⚜⚜⚜⚜⚜⚜
শিরক শব্দের অর্থ-অংশীদারিত্ব,অংশিবাদ,মিলানো, সমকক্ষ করা, সমান করা, শরিক করা, ভাগাভাগি করা। ইংরেজীতে Polytheism (একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস), Associate,partner.
বিশ্বাসগতভাবে,আমলগতভাবে আল্লাহর সাথে ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে আল্লাহর অংশিদার/সমতুল্য বা সমান বানানোকে/করাকে শিরক বলে।
রব ও ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সহিত আর কাউকে শরীক (অংশিদার) সাব্যস্ত করার নামই শিরক৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়াত তথা ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়৷ যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দোয়া করা কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদত যেমন যবেহ, মান্নাত, ভয়, কুরবানী, আশা, মহব্বত,আনুগত্য,ভরসা ইত্যাদি কোন কিছু গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা৷ আল্লাহকে ডাকার মত অন্যকে ডাকা, আল্লাহকে ভয় করার মত অন্যকে ভয় করা, তাঁর কাছে যা কামনা করা হয়, অন্যের কাছে তা কামনা করা। তাঁকে ভালোবাসার মত অন্যকেও ভালোবাসা।
শিরক কত প্রকার?

[ শিরক দুই প্রকার: ১. শিরকে আকরার(বড় শিরক) ও ২.শিরকে আসগার (ছোট শিরক)
১. শিরকে আকরার(বড় শিরক) যা বান্দাকে মিল্লাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়। এ ধরণের শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি যদি শিরকের উপরই মৃত্যুবরণ করে, এবং তা থেকে তওবা না করে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী ভাবে দোজখে অবস্থান করবে। শিরকে আকবর হলো গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া যে কোন ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর উদ্দেশ্যে কোন ইবাদত আদায় করা, গাইরুল্লাহর উদ্দেশে কুরবানী করা, মান্নাত করা, কোন মৃত ব্যক্তি কিংবা জ্বিন অথবা শয়তান কারো ক্ষতি করতে পারে কিংবা কাউকে অসুস্থ করতে পারে, এ ধরনের ভয় পাওয়া, প্রয়োজন ও চাহিদা পূর্ণ করা এবং বিপদ দূর করার ন্যায় যে সব ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ক্ষমতা রাখেনা সে সব ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে আশা করা।
আজকাল আওলিয়া ও বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহকে কেন্দ্র করে এ ধরনের শিরকের প্রচুর চর্চা হচ্ছে। এদিকে ইশারা করে আল্লাহ বলেন:
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهَِ
“তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর ইবাদত করে, যা না তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে, না করতে পারে, কোন উপকার। আর তারা বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।” [সূরা ইউনুছ ১০:১৮ ]
২.শিরকে আসগার (ছোট শিরক) শিরক আসগার বান্দাকে মুসলিম মিল্লাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়না, তবে তার একত্ববাদের আক্বীদায় ত্রুটি ও কমতির সৃষ্টি করে। এটি শিরকে আকবারে লিপ্ত হওয়ার অসীলা ও কারণ। এ ধরনের শিরক দু’প্রকার:
প্রথম প্রকার: স্পষ্ট শিরক এ প্রকারের শিরক কথা ও কাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
কথার ক্ষেত্রে শিরকের উদাহরণ:
আল্লাহর ব্যতীত অন্য কিছুর কসম ও শপথ করা।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:“যে ব্যক্তি গাইরুল্লার কসম করল, সে কুফুরী কিংবা শিরক করল’ [তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলেছেন। আর হাকেম একে সহীহ বলে অবহিত করেছেন। হাদিস নং ১৫৩৫,মুসতাদরাক হাকিম,১/১৭]
অনুরূপভাবে এমন কথা বলা যে, ”আল্লাহ এবং তুমি যেমন চেয়েছ” ماشاء الله وشئت কোন এক ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “আল্লাহ এবং আপনি যেমন চেয়েছেন” কথাটি বললে তিনি বললেন, ”তুমি কি আমাকে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ স্থির করলে? বরং বল, আল্লাহ এককভাবে যা চেয়েছেন।” [ইবনে আবি হাতিম, নাসায়ী-,৯৭৭,৩৭০৪]

আর কাজের ক্ষেত্রে শিরকের উদাহরণ:
যেমন বিপদাপদ দূর করার জন্য কড়ি কিংবা দাগা বাঁধা, বদনজর থেকে বাঁচার জন্য তাবীজ ইত্যাদি লটকানো। এসব ব্যাপারে যদি এ বিশ্বাস থাকে যে, এগুলো বলা-মসীবত দূর করার মাধ্যম ও উপকরণ, তাহলে তা হবে শিরকে আসগার। কেননা আল্লাহ এগুলোকে সে উপকরণ হিসাবে সৃষ্টি করেননি। পক্ষান্তরে কারো যদি এ বিশ্বাস হয় যে, এসব বস্তু স্বয়ং বালা- মুসীবত দূর করে, তবে তা হবে শিরক আকবর। কেননা এতে গাইরুল্লাহর প্রতি সেই ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।

দ্বিতীয় প্রকার: গোপন শিরক
এ প্রকার শিরকের স্থান হলো ইচ্ছা, সংকল্প ও নিয়্যাতের মধ্যে। যেমন লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ও প্রসিদ্ধি অর্জনের জন্য কোন আমল করা। অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায় এমন কোন কাজ করে তা দ্বারা মানুষের প্রশংসা লাভের ইচ্ছা করা। যেমন সুন্দর ভাবে নামায আদায় করা, কিংবা সদকা করা এ উদ্দেশ্যে যে, মানুষ তার প্রশংসা করবে, অথবা সশব্দে যিকির- আযকার পড়া ও সুকণ্ঠে তেলাওয়াত করা যাতে তা শুনে লোকজন তার গুণগান করে। যদি কোন আমলে রিয়া তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য সংমিশ্রিত থাকে, তাহলে আল্লাহ তা বাতিল করে দেন।
আল্লাহ বলেন:
فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
“অতএব যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে ” [সূরা কাহাফ,১৮: ১১০]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের উপর আমি যে জিনিসের ভয় সবচেয়ে বেশী করছি তা হল শিরকে আসগর। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রসূলাল্লাহ! শিরকে আসগর কি? তিনি বললেন: রিয়া (লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা) ” [আহমদ ৩/৩০,ইবনে মাজাহ হা নং৫২০৪, তাবারানী, বাগাভী]
পার্থিব লোভে পড়ে কোন আমল করাও এ প্রকার শিরকের অন্তর্গত। যেমন কোন ব্যক্তি শুধু মাল- সম্পদ অর্জনের জন্যেই হজ্জ করে, আযান দেয় অথবা লোকদের ইমামতি করে, কিংবা শরয়ী জ্ঞান অর্জন করে বা জিহাদ করে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“দীনার, দিরহাম এবং খামিসা- খামিলা (তথা উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ) এর যারা দাস, তাদের ধ্বংস। তাকে দেয়া হলে সে সন্তুষ্ট হয়, আর না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।” ( সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৭৬ :: হাদিস ৪৪৩)
ইমাম ইবনুল কাইয়েম (রহ) বলেন সংকল্প ও নিয়্যাতের শিরক হলো এমন এক সাগর সদৃশ যার কোন কূল- কিনারা নেই। খুব কম লোকই তা থেকে বাঁচতে পারে। অতএব যে ব্যক্তি তার আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু ও গাইরুল্লাহর কাছে ঐ আমলের প্রতিদান প্রত্যাশা করে, সে মূলতঃ উক্ত আমল দ্বারা তার নিয়ত ও সংকল্প নিয়্যত খালিছ ভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্যে করা। এটাই হলো সত্যপন্থা তথা ইব্রাহীমের মিল্লাত, যা অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতদ্ব্যতীত তিনি কারো কাছ থেকে অন্য কিছু কবুল করবেন না। আর এ সত্য পন্থাই হলো ইসলামের হাকীকত।
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“কেহ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও কবুল করা হবেনা এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত।” [আলে ইমরান, ৩:৮৫]

উপরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, শিরকে আকবার ও শিরকে আসগারের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হল:
১. কোন ব্যক্তি শিরকে আকবারে লিপ্ত হলে সে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের হয়ে যায়। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারের ফলে সে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের হয় না।
২. শিরকে আকবরে লিপ্ত ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে গেলে চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেনা।
৩. শিরকে আকবার বান্দার সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয়, কিন্তু শিরকে আসগার সব আমল নষ্ট করেনা। বরং রিয়া ও দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত আমল শুধু তৎসংশ্লিষ্ট আমলকেই নষ্ট করে।
৪. শিরকে আকবারে লিপ্ত ব্যক্তির জান-মাল মুসলমানদের জন্য হালাল। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারে লিপ্ত ব্যক্তির জান-মাল কারো জন্য হালাল নয়। ]

[ লেখক : সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান অনুবাদক : মানজুরে ইলাহী সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব]

Address

Gopalpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Babu Sardar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category