26/09/2026
🛑পানামার বিরুদ্ধে দাপট ভারতের, ৪৪ নম্বর দলকে রুখে ঐতিহাসিক সাফল্য
বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ খেলা পানামার বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করল ভারত। ফিফা ক্রমতালিকায় ৪৪ নম্বরে থাকা পানামাকে রুখে দিয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারতের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়েও যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দু’দলকে।
পানামাকে ভারতে এনে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি বা আয়োজনের খরচ—কোনও কিছুই ভারতের পারফরম্যান্সের কৃতিত্বকে খাটো করে না। বরং বিশ্বকাপ খেলে আসা একটি দলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলারদের লড়াই নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় ভারতকে। বিশেষ করে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বারবার পানামার রক্ষণে চাপ তৈরি করেন আশিক কুরুনিয়ন। দীর্ঘ ন’মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে নজর কাড়েন তিনি।
ভারতের হয়ে গোল করেন রায়ান উইলিয়ামস। আকাশ মিশ্রর লম্বা পাস ধরে পানামার বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন রায়ান। প্রথমার্ধেই আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্লেসিং শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
শুধু রায়ান বা আশিক নন, ভারতের হয়ে গুরপ্রীত সিং সান্ধু, মনবীর সিং, বিক্রম, আকাশরাও নজর কাড়েন। দলগত সংহতি এবং ফুটবলারদের পরিশ্রমকেই এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল।
খালিদের কথায়, ‘‘সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। নিজেদের উপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা জানতাম, ভালো করার ক্ষমতা আমাদের আছে। যে ফল পেয়েছি, তার পুরো কৃতিত্ব ফুটবলারদের। দলের স্পিরিটও খুব ভালো ছিল। আমরা দল হিসাবে খেলেছি। তারই ফল পেয়েছি।’’
বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভারতের একের পর এক আক্রমণ নিয়েও কথা বলেছেন খালিদ। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা করে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণ করা হয়নি। বরং ফুটবলারদের স্বাভাবিক খেলাতেই সেই জায়গা থেকে বেশি আক্রমণ তৈরি হয়েছে।
আশিকের প্রত্যাবর্তনেও খুশি ভারতীয় কোচ। চোট কাটিয়ে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তাঁর প্রশংসা করেন খালিদ। পাশাপাশি বিক্রম, আকাশ এবং রায়ান উইলিয়ামসেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা এসেছে পানামার কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের মুখেও। ভারতীয় আক্রমণভাগকে যথেষ্ট বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা সময় পেলে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। দলে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার এবং সেকেন্ড স্ট্রাইকারকে সামলাতে গিয়ে আমাদের ডিফেন্সিভ লাইনের উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছিল।’’
বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলা পানামার বিরুদ্ধে ভারতের এই লড়াই তাই শুধু একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচের ফল নয়। বরং ১৩৮ নম্বর দলটির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক বড় মুহূর্ত। কান্তিরাভায় খালিদ জামিলের দল দেখিয়ে দিল—প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, মাঠে লড়াই করার সাহস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।