23/01/2026
অপেক্ষা ও অনুরাগের এক সন্ধ্যা ❤️✨
শহরের ব্যস্ত রাস্তার পাশে ওই ছোট্ট ক্যাফেটার নাম ছিল ‘পুরানো স্মৃতি’। ক্যাফেটা ঠিক সেরকমই ছিল যেমনটা ঋষি পছন্দ করে—অল্প আলো, হালকা জ্যাজ মিউজিক আর কফির কড়া সুগন্ধ। জানালার বাইরে বৃষ্টির ঝাপটা কাঁচের গায়ে নকশা তৈরি করছে, আর ভেতরে ঋষি আর প্রিয়া একে অপরের মুখোমুখি।
ঋষি প্রিয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আলতো করে চাপ দিল। এই স্পর্শটা শুধু প্রেমের নয়, বরং একটা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির। তাদের প্রেমের শুরুটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। প্রিয়া ছিল প্রাণচঞ্চল, পাহাড় ভালোবাসার মেয়ে; আর ঋষি ছিল শান্ত, বইয়ের পাতায় ডুব দিয়ে থাকা এক ছেলে। প্রথম দেখা এই ক্যাফেতেই, একটা বই অদলবদল হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। প্রিয়া ভুল করে ঋষির মার্ক করা 'কবিতা গুচ্ছ' বইটি নিয়ে চলে গিয়েছিল, আর ঋষি পেয়েছিল প্রিয়ার স্কেচবুক।
সেই স্কেচবুকের পাতায় প্রিয়া এঁকেছিল এক অচেনা ছেলের অবয়ব, যা হুবহু ঋষির মতো দেখতে ছিল। কয়েকদিন পর যখন তারা আবার এখানে দেখা করল বই ফেরত দিতে, তখন ঋষি হেসে বলেছিল, "তুমি কি আগে থেকেই জানতে যে আমাদের দেখা হবে? না হলে আমার ছবি তোমার ডায়েরিতে এল কী করে?" প্রিয়া সেদিন লজ্জায় লাল হয়ে কফি কাপে মুখ লুকিয়েছিল। সেই শুরু।
মাঝে কেটে গেছে দীর্ঘ তিন বছর। কাজের চাপে দুজনের দেখা হওয়া কমে এসেছিল, ভুল বোঝাবুঝি এসেছিল ঝড়ের মতো। একবার তো মনে হয়েছিল সব বুঝি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আজ এই ক্যাফেতে বসে ঋষি বুঝতে পারছে, দূরত্ব আসলে ভালোবাসা বাড়ায়। প্রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে ঋষি ধীর স্বরে বলল, "সব ঝগড়া আর অভিমান সরিয়ে আজ শুধু আমরা থাকি না?"
প্রিয়া ম্লান হেসে উত্তর দিল, "আমি তো সবসময় এখানেই ছিলাম ঋষি, শুধু তোমার হাতটা ধরার অপেক্ষা করছিলাম।" ক্যাফের হলদেটে আলোয় তাদের ছায়া এক হয়ে মিশে যাচ্ছিল। বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু তাদের হৃদয়ে অনুরাগের যে নতুন ধারা শুরু হয়েছে, তা আজীবন বয়ে চলার শপথ নিল।