Minhaz Ashif

Minhaz Ashif This page is about my personal blog

মালদা টাউন—আমের হাতছানি 🍋🥭মালদা টাউন এসে পৌঁছালাম। ট্রেন তখন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেছে, শুধু থামার অপেক্ষা। ট্রেন থামতেই শু...
25/08/2026

মালদা টাউন—আমের হাতছানি 🍋🥭
মালদা টাউন এসে পৌঁছালাম। ট্রেন তখন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেছে, শুধু থামার অপেক্ষা। ট্রেন থামতেই শুরু হলো চেনা সেই ব্যস্ততা—কেউ নামছে, কেউ উঠছে, আর মুহূর্তের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মজুড়ে একটা শোরগোল পড়ে গেল।
আমরা অবশ্য আগেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে নিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে এসেছিলাম, তাই খাবারের জন্য কোনো চিন্তা ছিল না।
এর মধ্যেই চোখ আটকে গেল প্ল্যাটফর্মে আম বিক্রি করা কয়েকজনের দিকে। ছোট ছোট প্যাকেটে করে আম নিয়ে ঘুরছিলেন। একেকটা প্যাকেটে প্রায় দেড় কেজি আম, আর দাম মাত্র ৫০ টাকা! 🥭
দাম শুনে তো আম কেনার শখটা বেশ জেগেই উঠল। কিন্তু তখন আমাদের গন্তব্য নিউ জলপাইগুড়ি—দার্জিলিংয়ের পথে। এতটা পথ সামনে, সঙ্গে আবার লাগেজও আছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও সেই মুহূর্তে আম কেনার ইচ্ছেটাকে একটু নিরস্ত করলাম।
তবে মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল—আমগুলো টক হবে, নাকি মিষ্টি? 😄
শেষ পর্যন্ত সেই কৌতূহলের উত্তর পেয়েছিলাম ফেরার পথে। ফেরার সময় আর ইচ্ছেটাকে আটকে রাখিনি—আম কিনেই ফেললাম। দাম তখনও একই, ৫০ টাকা প্যাকেট।
বাড়ি ফিরে আম কেটে দেখা গেল, কিছু আম বেশ মিষ্টি, আবার কিছু আম একেবারে টক! 😄
তবুও সেই আমের স্বাদে যেন মিশে ছিল আমাদের দার্জিলিং ভ্রমণের একটা ছোট্ট স্মৃতি।
মালদার প্ল্যাটফর্মে দেখা সেই আম—ফেরার পথে হয়ে গেল আমাদের ভ্রমণের মিষ্টি-টক এক স্মৃতি। 🥭❤️

21/08/2026

দার্জিলিং ভ্রমণ — দ্বিতীয় পর্ব

ট্রেন তার নির্দিষ্ট সময়েই যাত্রা শুরু করল। সময়সূচি অনুযায়ী, আমাদের এই দীর্ঘ যাত্রার শেষে রাত সাড়ে আটটা নাগাদ এনজেপি পৌঁছানোর কথা। সামনে লম্বা পথ—আর সেই পথকে আরও আনন্দময় করে তুলতে শুরু হয়ে গেল আমাদের আড্ডা, গল্প আর হাসি-ঠাট্টা।

দৈনন্দিন জীবনে সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত থাকি। একসঙ্গে এতটা সময়, কোনো তাড়া ছাড়াই, ফাঁকা মনে বসে গল্প করার সুযোগ কোথায়! তাই ট্রেনের এই দীর্ঘ যাত্রাটুকু যেন আমাদের কাছে এক অন্যরকম পাওয়া। সেই সময়টুকুরই সদ্ব্যবহার শুরু হয়ে গেল।

আমরা সেকেন্ড সিটিং নিয়েছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, আমাদের কামরাটি বেশ ফাঁকাই ছিল। যাত্রীও ছিল তুলনামূলকভাবে খুব কম। উত্তরবঙ্গগামী অন্যান্য ট্রেন, বিশেষ করে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে রাতের বেলা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর টিকিট যেখানে এক মাস, দেড় মাস আগেও পাওয়া কঠিন, সেখানে এই ট্রেনের টিকিট এক সপ্তাহ আগেও পাওয়া গেল। সম্ভবত দিনের বেলা যাত্রা হওয়াটাই এর কারণ। যারা দার্জিলিং বা উত্তরবঙ্গ বেড়াতে যান, তাঁদের অনেকের কাছেই দিনের একটা বড় অংশ ট্রেনে কাটানো মানে যেন একটি দিন নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই হয়তো এই ট্রেনে ভিড়ও তুলনামূলক কম।

যাই হোক, ক্যাপ্টেন আগেই বলে দিয়েছিল—দুপুরের সময়টা ট্রেনেই কাটবে, তাই প্রত্যেকে যেন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসে। কথামতো সবাই নিজের নিজের বাড়ি থেকে টিফিন বক্সে করে খাবার নিয়ে এসেছিল। দুপুর গড়াতেই সেই খাবারেরও সদ্ব্যবহার শুরু হলো। খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে চলছিল দীর্ঘ, একটু আলসেমি জড়ানো আড্ডা।

ট্রেন মালদা টাউনে ঢোকার আগেই আমরা দুপুরের আহার সেরে নিলাম। এরপর ট্রেন এসে দাঁড়াল মালদা টাউন স্টেশনে। এখানে বেশ কিছুক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে রইল। মালদা মানেই আম—আর সেই পরিচয়ের যেন বাস্তব প্রমাণ মিলল স্টেশনেই।

কয়েকজন বিক্রেতা ক্যারিব্যাগ হাতে নিয়ে হাঁক দিচ্ছিলেন—“আম নেবেন? আম নেবেন?” একেকটি প্যাকেটে আনুমানিক দেড় থেকে দুই কেজি আম। দাম চাইছিলেন মাত্র ৫০ টাকা! বর্তমান বাজারদরের তুলনায় নিঃসন্দেহে বেশ কম। আম দেখে ইচ্ছে তো হচ্ছিল, কিন্তু তখন আমাদের অভিমুখ অন্যদিকে। তাই ইচ্ছেটাকে আপাতত ইচ্ছেই থাকতে হলো। মনে হলো, ফেরার সময় যদি সুযোগ হয়, তখন দেখা যাবে।

এদিকে দুপুরের টিফিন শেষ করে দলের সঙ্গীরা যে যার মতো সিটে বসে ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন এটাকে ঘুম বলব, না তন্দ্রা—সেটা আপনারাই বিচার করুন! ট্রেন ছুটে চলেছে, পথ এখনও অনেক বাকি।

এদিকে ট্রেন তার নিজস্ব গতিতে ছুটে চলেছে, আর সময়ও তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে। বিকেল প্রায় শেষের দিকে। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। আধো আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রকৃতি।

এরই মধ্যে আমাদের ট্রেন অল্প সময়ের মধ্যেই বিহারের কিষানগঞ্জ পেরিয়ে এনজেপির দিকে ছুটে চলেছে। একটা সময় চোখে পড়ল এক চমৎকার দৃশ্য—রেললাইন আর সড়কপথ যেন পাশাপাশি ছুটে চলেছে। রেলপথে আমাদের ট্রেন, আর পাশের সড়কপথে উত্তরবঙ্গগামী বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট গাড়ি—সবাই যেন নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে।

ট্রেন পথে একটু দেরি করেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ সময়ে গতি বাড়িয়ে যেন সেই দেরির ঘাটতি পুষিয়ে দিল। আমরাও ধীরে ধীরে আমাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চললাম।

অবশেষে ঘড়ির কাঁটা যখন রাত সাড়ে আটটার কাছাকাছি, তখন আমাদের ট্রেন এসে পৌঁছাল নিউ জলপাইগুড়ি—এনজেপি স্টেশনে।

দীর্ঘ ট্রেনযাত্রার সমাপ্তি হলো। সামনে অপেক্ষা করছে পাহাড়, মেঘ, ঠান্ডা হাওয়া আর দার্জিলিংয়ের নতুন এক গল্প।(চলবে)

ট্রেন কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ছেড়েছিল, একটুও লেট করেনি, কথা বলতে বলতে গল্পচ্ছলে দেখি রামপুরহাট জংশন চলে এসেছে।। সাথে থাকব...
27/07/2026

ট্রেন কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ছেড়েছিল, একটুও লেট করেনি, কথা বলতে বলতে গল্পচ্ছলে দেখি রামপুরহাট জংশন চলে এসেছে।। সাথে থাকবেন, ভ্রমণের আরো গল্প বলবো

তখনো ট্রেন ছাড়ার দেরি আছে, একটু ফটো সেশন, কলকাতা স্টেশন।
27/07/2026

তখনো ট্রেন ছাড়ার দেরি আছে, একটু ফটো সেশন, কলকাতা স্টেশন।

কলকাতা স্টেশনে আমি আর রাজাদা, দার্জিলিং যাবার পথে।
26/07/2026

কলকাতা স্টেশনে আমি আর রাজাদা, দার্জিলিং যাবার পথে।

05/07/2026

কমরেড একাই পোস্টার মেরে চলেছে। 🙂

05/07/2026
দার্জিলিং ভ্রমণ — প্রথম পর্বঈদুল আযহার ঠিক এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই ক্যাপ্টেন এসে বলল,— "দার্জিলিং যাবি?"আমি তো শুনেই হেস...
28/06/2026

দার্জিলিং ভ্রমণ — প্রথম পর্ব

ঈদুল আযহার ঠিক এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই ক্যাপ্টেন এসে বলল,

— "দার্জিলিং যাবি?"

আমি তো শুনেই হেসে ফেললাম। বললাম,

— "ভাই, বাজেট বলে একটা জিনিস আছে!"

ক্যাপ্টেন খুব নিশ্চিন্ত গলায় উত্তর দিল,

— "আরে, সাড়ে তিন হাজার টাকাতেই হয়ে যাবে। তবে ট্রিপটা হবে একেবারে শর্ট অ্যান্ড সুইট!"

আমি তখন মনে মনে ভাবছি, সাড়ে তিন হাজারে আবার দার্জিলিংও হয় নাকি! তবুও কৌতূহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম,

— "কবে রওনা?"

উত্তর এল,

— "ঈদের দু-তিন দিন পর।"

আমার মাথায় তখন একগাদা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এত কম সময়ে টিকিট হবে কীভাবে? কোথায় থাকব? কীভাবে ঘুরব? সবকিছুর পরিকল্পনাই বা হবে কখন?

ক্যাপ্টেন এক কথায় সব দুশ্চিন্তার ইতি টেনে দিল,

— "ওসব আমার ওপর ছেড়ে দে। তুই শুধু বল, যাবি কি না?"

আমি আর দেরি না করে বললাম,

— "যাবো!"

পাঠকদের একটা কথা আগে থেকেই জানিয়ে রাখি, এই ভ্রমণটা আমরা করেছিলাম প্রায় এক বছর আগে। সেই স্মৃতিগুলোই আজ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি।

শেষ পর্যন্ত আমাদের দলে সদস্য হলো মোট আটজন। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার জন্য আমরা বেছে নিলাম কলকাতা–হলদিবাড়ি ত্রি-সাপ্তাহিক ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (সামার স্পেশাল)। ভাড়াও অবাক করার মতো—মাত্র ১৯৫ টাকা!

যেহেতু ট্রেনটি সকালে ছাড়ে এবং সন্ধ্যার মধ্যে এনজেপি পৌঁছে দেয়, তাই বাজেটের কথা মাথায় রেখে আমরা সেকেন্ড সিটিং-এর টিকিটই কেটে ফেললাম। হাজার হোক, পকেটেরও তো একটা সম্মান আছে!

ঈদ হয়েছিল সম্ভবত মঙ্গলবার। আর আমরা সন্তোষপুর থেকে রওনা দিলাম বৃহস্পতিবার সকালে। প্রথমে লোকাল ট্রেনে শিয়ালদহ, তারপর আরেকটি লোকাল ধরে বিধাননগর স্টেশন। সেখান থেকে অটোয় চেপে পৌঁছে গেলাম কলকাতা স্টেশনে।

এই প্রথম কোনো দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে কলকাতা স্টেশনে এলাম। হাওড়া বা শিয়ালদহের সঙ্গে তুলনা করলে যেন একেবারে অন্য জগৎ! নেই সেই চিরচেনা ঠেলাঠেলি, নেই কানের পর্দা ফাটানো হইচই।

আমাদের ট্রেন সকাল ৯টা ৫ মিনিটে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১০–১৫ মিনিট আগেই পৌঁছে গেলাম। স্টেশন চত্বর ঝকঝকে পরিষ্কার, কিন্তু লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে।

মনে মনে ভাবলাম, দিনের বেলায় যদি এমন নিরিবিলি হয়, তাহলে রাত সাত-আটটার পর কী অবস্থা হয়? তখন এখান থেকে বাড়ি ফেরার গাড়ি-ঘোড়া পাওয়া যায় তো? যাই হোক, সে চিন্তা পরে হবে। আগে দার্জিলিংটা ঘুরে আসা যাক!

প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটতে হাঁটতে একটু দূরে চোখে পড়ল আরজি কর হাসপাতাল। সাম্প্রতিক সময়ের এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকা জায়গাটা দেখে মুহূর্তের জন্য মনটা ভারী হয়ে গেল। তারপর আবার ভ্রমণের উত্তেজনাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে চলল।

ট্রেন ধরার জন্য যাত্রীও আশ্চর্যজনকভাবে খুব কম। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের এমন ফাঁকা চেহারা দেখে সত্যিই অবাক হতে হয়। কারণ আমাদের তো মাত্র এক সপ্তাহ আগে টিকিট কেটেই সহজে রিজার্ভেশন হয়ে গেল! অথচ শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গের ট্রেনে অনেক সময় এক মাস আগেও টিকিট পাওয়া কঠিন।

যাই হোক, আমরা সবাই নিজেদের সিট খুঁজে নিয়ে আরাম করে বসে পড়লাম।

এরপর আরেকটা ছোট্ট ধাক্কা খেলাম। প্ল্যাটফর্মের ভেতরে চায়ের দোকানই নেই! চা খেতে হলে আবার সেই লম্বা ওভারব্রিজ পেরিয়ে বাইরে যেতে হবে। লোকজন নেই, হকারও নেই—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, স্টেশনটা যেন একটু বেশিই শান্ত।

কিন্তু আমাদের ভ্রমণ তো সবে শুরু...

(চলবে...)

যতক্ষণ চেষ্টা করছ, ততক্ষণ সুযোগ আছে।থেমে গেলে গল্প শেষ।কারণ, হার মানেই শেষ নয়—হার থেকে আবার উঠে দাঁড়ানো যায়। কিন্তু থ...
18/06/2026

যতক্ষণ চেষ্টা করছ, ততক্ষণ সুযোগ আছে।

থেমে গেলে গল্প শেষ।
কারণ, হার মানেই শেষ নয়—হার থেকে আবার উঠে দাঁড়ানো যায়। কিন্তু থেমে গেলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় নতুন করে শুরু করার ইচ্ছাটাই।

তাই ব্যর্থতাকে নয়, থেমে যাওয়াকে ভয় করো।
প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই তোমাকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে যায়।

চেষ্টা চালিয়ে যাও। একদিন সাফল্য তোমার দরজায় কড়া নাড়বেই। 💙

🌿 সন্ধ্যার একটু শান্তি 🌆  সব ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য দরকার।
13/01/2026

🌿 সন্ধ্যার একটু শান্তি 🌆
সব ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য দরকার।

Address

Sontoshpur Bazaar Para Maheshtala Kolkata
Kolkata
700141

Telephone

+919748709126

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Minhaz Ashif posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Minhaz Ashif:

Shortcuts

Share