29/09/2026
ছোটবেলায় তিনি ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর্য সমাজের পরিবেশে বড় হয়েছেন, DAV স্কুলে প্রার্থনা ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতেন। তাঁর বাবাও তাঁকে নিয়মিত প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করতেন। অর্থাৎ তাঁর নাস্তিকতাকে জন্মগত বা পারিবারিক বিদ্রোহ বলা ঠিক হবে না।
National College-এ পড়ার সময় তিনি ধর্ম, ঈশ্বর ও বিভিন্ন ধর্মীয় ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। পরে বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে শুধু আবেগ বা অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে কোনো আদর্শকে গ্রহণ করা উচিত নয়।
তিনি লিখেছেন, তাঁর কাছে তখন “Study” হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি Bakunin, Marx, Lenin, Trotsky প্রমুখের লেখা পড়েন এবং ঈশ্বর ও ধর্ম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে চিন্তা করেন।
ভগৎ সিংয়ের যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল:
যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও সর্বব্যাপী হন, তাহলে পৃথিবীতে এত দারিদ্র্য, শোষণ, যুদ্ধ, অন্যায় ও অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগ কেন?
তিনি এই প্রশ্নের সহজ ধর্মীয় উত্তর গ্রহণ করতে চাননি। তাঁর কাছে কোনো বিশ্বাসের সত্যতা শুধু প্রাচীন বা জনপ্রিয় হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠিত হয় না—তার যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি থাকতে হবে।
ভগৎ সিং সব ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণা করতেন—এমন দাবি তাঁর লেখার সঙ্গে মেলে না। তাঁর আপত্তির কেন্দ্রে ছিল অন্ধ বিশ্বাস, ঈশ্বরের ধারণা এবং সেই বিশ্বাসের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর যুক্তি। তিনি নিজের অবস্থানকে ব্যক্তিগত চিন্তা ও যুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।