12/27/2025
ইনকিলাব সেন্টারে নিয়মিত গোয়েন্দা এজেন্ট পাঠাতো DGFI
তাদের এজেন্ট পাঠানো টা শুরু হয় ইনকিলাব মঞ্চ শুরুর হবার অনেকদিন পর থেকে।
হাদী ভাইয়ের বিভিন্ন ভিডিও, টক শো, ইন্টারভিউগুলো যখন লাইমলাইটে আসতে শুরু করে, যখন আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন দলের, সেনাপ্রধানের এবং ভারতের সমালোচনা শুরু করে তখন থেকে পর্যবেক্ষণে নামে DGFI.
প্রথমদিকে হাদী ভাইকে এবং ইনকিলাব মঞ্চকে তেমন একটা আমলে নেয়নি তারা। কিন্তু যখন লাইমলাইটে আসে তখন তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে পুরো বিষয়ে একটা রিপোর্ট জানাতে বলা হয়েছিল।
তাই তারা সরাসরি লোক পাঠিয়ে বুঝার চেষ্টা করছিল ওসমান হাদী আসলেই ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যে থ্রেট কি-না।
এজন্যে ইনকিলাব সেন্টারে সিভিল বেশে গোয়েন্দা এজেন্ট পাঠানো হতো। সেটা তারা পাঠাতো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে।
ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এমনিতেই নিয়মিত DGFI এর কয়েকজন এজেন্টরা অবস্থান করে। বড় বড় রাজনীতিবিদদের মিটিং গুলোও হতো এই হোটেলে।
কারণ এখানে সবচেয়ে বেশি প্রাইভেসি পাওয়া যেত, নিউজ লিক হবার সম্ভাবনা কম ছিল।
অন্য জায়গা থেকে এজেন্ট না পাঠিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকেই এজেন্টদের পাঠানোর সবচেয়ে বড় কারণ ছিল- এখান থেকে ইনকিলাব সেন্টারে যেতে সময় লাগে মাত্র ১০-১২ মিনিট।
যেহেতু তারা একটা দীর্ঘ সময় যাবত পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিল সেজন্যেই এই হোটেলে অবস্থান নেয়া এজেন্টদের পাঠাতো।
যুদ্ধের আগে সৈন্যরা যেমন শত্রুর পরিস্থিতি রেকি করে ঠিক তেমনি DGFI তাদের লোক পাঠিয়ে হাদী ভাইয়ের মোটিভ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিটা বুঝার চেষ্টা করছিল।
সে তাদের পুরো গ্রুপটার জন্যে থ্রেট কি-না সেটাও বুঝার ট্রাই করছিল।
সেজন্যে DGFI এর পাঠানো লোক ইনকিলাব সেন্টারে কি কি বই আছে, কারা এখানে আসে, এখানে কি কি কার্যক্রম হয়, কি শেখানো হয় সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল।
এমনকি বইগুলোও ঘেঁটে ঘেঁটে দেখতো কোন টাইপের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেখানকার বেশিরভাগ বই ই ছিল অবশ্য ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিপ্লব সংক্রান্ত বই।
ওরা যখন পর্যবেক্ষণ করছিল তখন হাদী ভাইয়ের খু*নী ফয়সাল অ*স্ত্র মামলায় জেলে ছিল।
কোনদিন কি কি পর্যবেক্ষণ করেছে সেসব ওরা আবার ভারতীয় বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের কাছে পাঠাতো। রাজনীতিবিদ হয়ে কিছু ভারতীয় সাংবাদিকও সেসব নিউজ পেত।
ভারতীয় পত্রিকা The Hindu হাদী ভাইয়ের ইনকিলাব সেন্টারে কোনদিন কি কি হয়েছে সেগুলো নিয়েও নিউজ করেছিল। ভিতরকার এত ডিটেইলস ভারতে বসে সাংবাদিকের জানার কথা না।
মূলত নিউজ বাইপাস হয়েছে। পরে হাদী ভাইয়ের হ*ত্যার পর The Hindu পত্রিকাটা ওই আর্টিকেলগুলো ডিলিট করে দিয়েছে (কমেন্টে সেগুলোর স্ক্রিনশট দিয়েছি)।
আমাদের সোর্সদের মতে DGFI তাদের এজেন্ট পাঠিয়ে আনুমানিক ২০-২৫ দিনের মতো ইনকিলাব সেন্টারে রেকি করিয়েছিল।
তারপর তারা ফাইনাল রিপোর্ট এবং ফাইনাল সিগনাল দেয় যে ওসমান হাদী এবং ইনকিলাব মঞ্চ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে থ্রেট হিসাবে গণ্য হতে পারে। তাকে সরিয়ে দেয়াটাই বেটার।
DGFI এর এজেন্টরা এই সংবাদটা পাঠায় যারা তাদেরকে এ কাজে নিযুক্ত করেছিল।
এর মাসখানেক পরই শ্যুটার ফয়সালকে অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং বিপুল টাকা খরচ করে জামিন নিয়ে দেয়া হয়। দুই দুইবার জামিন নিয়ে দেয়া হয়েছিল তাকে।
তাকে মূলত এই কি*লিং মিশনের উদ্দেশ্যেই বের করা হয়েছিল এবং বর্ডার ক্রস করিয়ে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল।
তারপরই শ্যুটার ফয়সাল তার চুল ছোট করে, চোখে কন্টাক্ট লেন্স লাগিয়ে পুরো লুক পাল্টিয়ে হাদী ভাইয়ের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করতে থাকে।
তাকেও শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল কিভাবে কিভাবে মিশতে হবে। শ্যুটার ফয়সাল সেই অনুযায়ীই হাদী ভাইয়ের সাথে মিশে এবং নির্বাচনী প্রচারণাও চালায়।
এভাবেই ১০-১৫ দিন একসাথে থেকে বিশ্বস্ততা অর্জন করার পর হাদী ভাইকে খু*ন করার মিশনটা সাকসেসফুল করে সে।
তার পালিয়ে যাওয়ার সব সেট-আপও আগে থেকেই রেডি করা ছিল বেশ কয়েকটা গ্রুপের মাধ্যমে।
মূলত হাদী ভাইকে খু*ন করার আগে গোয়েন্দারা দুইটা ইউনিটের এজেন্ট পাঠিয়ে বুঝার চেষ্টা করা হয়েছিল ওসমান হাদী ভবিষ্যত রাজনীতির জন্যে এবং তাদের উর্ধ্বতনদের জন্যে হুমকিস্বরূপ কি-না।
পর্যবেক্ষণ করে বুঝার পরপরই বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে করা হয়েছিল।
এমনকি বিচার না করা এবং বিচারের ব্যাপারে মুখ না খোলার পিছনেও ব্যাকআপের জন্যে লাস্ট স্টেপের আরেকটা গ্রুপ কাজ করছে যাদের কাজই ছিল মেরে ফেললে আইন, আদালত এবং টাকা-পয়সার ব্যাকআপটা দেয়া।
আমাদের সমস্ত অনুসন্ধান, ইনফরমেশন এবং সবকিছু ক্রসচেক করার পর মনে হচ্ছে-
ঠিক এভাবেই হাদী ভাইকে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনীতি থেকে এবং পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে!
[Ibrahim Khalil Shawon]