26/08/2026
একই সঙ্গে বিয়ের ছুটির আবেদন করেছেন মহারাষ্ট্রের পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেটে (পিসিপিসি) কর্মরত দুই মহিলা কনস্টেবল। আর সেই আবেদন দেখেই চমকে গিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আবার অনেকে বিশেষ সাধুবাদও জানিয়েছেন দু’জনকে। কিন্তু কেন? কারণ আগামী ৩০ অগস্ট আলান্দিতে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করে একে অপরকে বিয়ে করতে চলেছেন ওই দুই মহিলা কনস্টেবল। বিষয়টি পুলিশ বিভাগে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই তাঁদের এক পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েতে আপত্তিও উঠেছে।
পুণের ‘ডেলি সিটি নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেট গঠনের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া ওই দুই কনস্টেবল গত তিন বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত আছেন। চাকরি করতে করতেই প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে বন্ধুত্ব গড়িয়ে প্রেম। তাঁরাই এখন বৈদিক রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছেন। বিয়ের আমন্ত্রণপত্র-সহ ইতিমধ্যেই ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন মহিলা কনস্টেবল যুগল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কনস্টেবলই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। এক জনের বাড়ি উত্তর মহারাষ্ট্রের একটি জেলায়। অন্য জন পুণে জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর তাঁদের দু’জনকেই অন্যান্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে পুলিশ সদর দফতরে নিযুক্ত করা হয়েছিল। শুরুতে তাঁরা অন্য দুই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে একই আবাসনে থাকতেন। পরবর্তী কালে তাঁদের দু’জনকেই পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের একই থানায় বদলি করা হয়। ফ্ল্যাটের অন্য সঙ্গীরা চলে যাওয়ার পরেও তাঁরা একসঙ্গে থেকে যান। সম্পর্কেও জড়ান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পরিচিত মহলের কিছু মানুষ তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন।
তবে দুই কনস্টেবলের বিয়ের বিষয়টি ভাল চোখে নিচ্ছেন না তাঁদের এক জনের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই ওই সম্পর্ক এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। এর আগে তাঁরা থানায় গিয়ে মহিলা কনস্টেবল যুগলের সম্পর্কে বাকি কর্মীদের কাছে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা বাকি কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের তারিখ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যেরা পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেটের (পিসিপিসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন এবং পদক্ষেপ করার দাবি জানান।
জানা গিয়েছে ওই পুলিশকর্তা তাঁদের বোঝান যে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা বা ব্যক্তিগত কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনকে পুলিশ আটকাতে পারে না। তবে প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। তবে বিয়ের আইনি স্বীকৃতি নেই। তা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যেই বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করলেন ওই দুই মহিলা কনস্টেবল। সুতরাং, আলান্দিতে বিয়ের অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে আয়োজন করলেও আইনত দম্পতির তকমা পাবেন না ওই দুই কনস্টেবল।
অন্য দিকে খবর, দু’জন মহিলা কনস্টেবলের মধ্যে এক জনের লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য তিনি মুম্বইয়ের একটি বড় হাসপাতালে দু’-তিন বার গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বিয়ে আইনত নিবন্ধন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়টিও তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনাটি সমাজমাধ্যমেও হইচই ফেলেছে। কনস্টেবল দম্পতিকে তাঁদের সাহস এবং সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছে নেটাগরিকদের একাংশ।